অ্যান্ড্রু জোন্স এমন একজন বডিবিল্ডার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন, যিনি যেন নিজের হৃদয় একটি ব্যাকপ্যাকে বহন করতেন—আর এটি কোনো রূপক কথা ছিল না।
২০১২ সালে অ্যান্ড্রুর ভাইরাল কার্ডিওমায়োপ্যাথি ধরা পড়ে, যার ফলে তাঁর হৃদপিণ্ড মারাত্মকভাবে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং তখনও উপযুক্ত দাতার হৃদপিণ্ড পাওয়া যায়নি। তাই চিকিৎসকরা তাঁর শরীরে একটি বহনযোগ্য কৃত্রিম হার্ট পাম্প স্থাপন করেন। ব্যাটারির বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলা এই যন্ত্রটি তাঁর শরীরে অবিরাম রক্ত সঞ্চালন করত, আর সেটির পাওয়ার সাপ্লাই তাঁকে সবসময় একটি ছোট ব্যাকপ্যাকে বহন করতে হতো।
যেহেতু যন্ত্রটি অবিরত রক্তপ্রবাহ বজায় রাখত, তাই অ্যান্ড্রুর স্বাভাবিক নাড়ির স্পন্দন বা পালস ছিল না। কেউ তাঁর পালস পরীক্ষা করলে মনে হতে পারত তিনি মারা গেছেন—অথচ তিনি সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবে সক্রিয়ও থাকতেন।
অবশেষে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যান্ড্রু হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের সুযোগ পান। নতুন হৃদপিণ্ড পাওয়ার পর তিনি সেই কৃত্রিম যন্ত্রটি ছেড়ে দিতে পারেন। বর্তমানে তিনি নতুন হৃদপিণ্ড নিয়ে জীবনযাপন করছেন, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকছেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে শেয়ার করে গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা অন্য মানুষদের অনুপ্রাণিত করছেন।
তাঁর অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়—আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কখনো কখনো জীবনকে এমন অবিশ্বাস্য উপায়ে ধরে রাখতে পারে,
যেখানে হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন না থাকলেও জীবন থেমে যায় না।