এর আগে সে ঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারত না।
ক্রুজোঁ সিনড্রোম (Crouzon syndrome) একটি বিরল জেনেটিক অবস্থা, যা প্রায় প্রতি ৬০,০০০ নবজাতকের মধ্যে ১ জনের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এই রোগে খুলির হাড়গুলো খুব তাড়াতাড়ি জোড়া লেগে যায়—এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ক্র্যানিওসিনোস্টোসিস (craniosynostosis)। যখন হাড়গুলো সঠিক সময়ে বাড়তে পারে না, তখন মুখমণ্ডল স্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে বৃদ্ধি পায় না। মধ্যমুখ (midface) অপর্যাপ্তভাবে বিকশিত থাকে। চোখের কোটর অগভীর থেকে যায়, ফলে চোখ সামনের দিকে ফুলে ওঠে। শ্বাসনালী যথেষ্ট প্রশস্ত না হওয়ায় অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং গুরুতর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
এই শিশুর উপর Le Fort III distraction osteogenesis নামে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এই পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে পুরো মধ্যমুখকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হয়। ছবিতে যে যন্ত্রটি দেখা যাচ্ছে, সেটিকে বলা হয় Rigid External Distraction (RED) frame। সার্জনরা পিনের মাধ্যমে এটি খুলির সঙ্গে সংযুক্ত করেন এবং মুখের হাড়ে নির্দিষ্ট স্থানে কাটা দেন। প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন যন্ত্রটি সামান্য (সাধারণত দিনে ১ মিমি) সমন্বয় করা হয়, যাতে মধ্যমুখ ধীরে ধীরে সামনে আসে। হাড়গুলো ধীরে আলাদা হয় এবং ফাঁকা স্থানে নতুন হাড় গঠিত হয়। হাড় নতুন অবস্থানে মজবুতভাবে জোড়া লাগা ও সেরে ওঠার জন্য ফ্রেমটি মোটামুটি তিন মাস পর্যন্ত লাগানো থাকে।
এর ফলাফল নাটকীয় হতে পারে। চোখ স্বাভাবিক আকারের কোটরের ভেতরে সঠিকভাবে বসে যায়, বিপজ্জনকভাবে বাইরে বেরিয়ে থাকে না। শ্বাসনালী খুলে যায়, ফলে শিশু বাধাহীনভাবে শ্বাস নিতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়া কমে যায় বা সম্পূর্ণ সেরে যেতে পারে। দৃষ্টিশক্তি স্থিতিশীল হয়। মুখমণ্ডলের গঠন আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
ক্রুজোঁ সিনড্রোমে আক্রান্ত অনেক শিশুর জন্য এই অস্ত্রোপচার জীবনরক্ষাকারী। এটি না হলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ, স্থায়ী দৃষ্টিহানি এবং দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যর্থতার মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।