মাথার ত্বকে থাকা একটি ছোট তিলকে প্রথমে নিরীহ মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে সেটিই মেলানোমায় পরিণত হয়, যা ত্বকের ক্যানসারের একটি গুরুতর ধরন। মাত্র ২২ বছর বয়সে মেক্সিকোর কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মী Alondra Sierra জানতে পারেন, যে দাগটিকে তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি, সেটি আসলে তার ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক।
রোগ নির্ণয়ের পর মেলানোমা অপসারণের জন্য তার অস্ত্রোপচার করা হয়। সুস্থ হয়ে ওঠার সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে তিনি শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি এই কঠিন সময়ের মানসিক অভিজ্ঞতাগুলোও শেয়ার করেন। তার গল্প দ্রুতই একটি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক বার্তায় পরিণত হয়—নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করা এবং শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার অভিজ্ঞতা মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে, ত্বকের ক্যানসার শরীরের অপ্রত্যাশিত স্থানেও দেখা দিতে পারে—এমনকি মাথার ত্বকেও। আর সময়মতো রোগ শনাক্ত করা অনেক ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেগালোডন (Megalodon)-কে সমুদ্রের ইতিহাসে বিচরণকারী সবচেয়ে শক্তিশালী শিকারি হাঙর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বিশাল দাঁত ১৮ সেন্টিমিটার (৭ ইঞ্চি) পর্যন্ত লম্বা হতে পারত, যা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে চমকপ্রদ জীবাশ্মগুলোর মধ্যে অন্যতম।
এই দাঁতগুলো দেখতে ছিল প্রাকৃতিক ব্লেডের মতো—বড়, ধারালো এবং অত্যন্ত শক্তিশালী। এগুলোর সাহায্যে মেগালোডন খুব সহজেই শিকারের দেহ ছিঁড়ে ফেলতে পারত এবং লক্ষ লক্ষ বছর আগে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে শীর্ষ শিকারি হিসেবে আধিপত্য বিস্তার করত।
আজও মেগালোডনের এই জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া দাঁতগুলো এই প্রাচীন সামুদ্রিক শিকারিটির বিশাল আকার ও অসাধারণ শক্তির সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণগুলোর একটি হিসেবে রয়ে গেছে।
রেমোরা (Remora) হলো সামুদ্রিক মাছ, যারা প্রায়ই হাঙর, সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং মান্টা রে-এর মতো বড় প্রাণীর শরীরে লেগে ভ্রমণ করে। তাদের মাথার ওপর থাকা চাকতির মতো একটি বিশেষ অঙ্গের সাহায্যে তারা অন্য প্রাণীর সঙ্গে আটকে থাকে। এই অঙ্গটি আসলে পরিবর্তিত একটি পৃষ্ঠীয় পাখনা, যা অনেকটা সাকশন কাপের মতো কাজ করে।
দেখতে এমন মনে হলেও, রেমোরা পরজীবী নয়। বরং তারা বড় প্রাণীর সঙ্গে লেগে থেকে কোনো শক্তি খরচ না করেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে এবং সেই প্রাণীর খাওয়ার পর বেঁচে যাওয়া খাবারের অংশ খেয়ে উপকৃত হয়। অন্যদিকে, যে প্রাণীর শরীরে তারা লেগে থাকে, তার সাধারণত কোনো ক্ষতি হয় না। তাদের এই সংযুক্ত থাকার ব্যবস্থা এতটাই কার্যকর যে, বড় প্রাণীটি দ্রুত গতিতে সাঁতার কাটলেও বা হঠাৎ দিক পরিবর্তন করলেও রেমোরা দৃঢ়ভাবে আটকে থাকতে পারে।
এই সম্পর্কটি কমেনসালিজম (Commensalism)-এর একটি চমৎকার উদাহরণ। এখানে একটি প্রজাতি উপকৃত হয়, কিন্তু অন্য প্রজাতিটির কোনো ক্ষতি হয় না।
আলজেরিয়ার মাইক্রো-আর্টিস্ট Fouad Kebdani অত্যন্ত ক্ষুদ্র পৃষ্ঠের ওপর অবিশ্বাস্য রকমের সূক্ষ্ম নকশা খোদাই করার জন্য পরিচিত। এমনকি একটি পেন্সিলের গ্রাফাইটের ডগার ওপরও তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খোদাই করতে সক্ষম হয়েছেন। অসীম ধৈর্য ও নিখুঁত দক্ষতার মাধ্যমে তিনি পুরো বর্ণমালা এবং আরও বিভিন্ন ক্ষুদ্রাকৃতির শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন, যেগুলো বড় করে না দেখলে প্রায় দেখাই যায় না।
তার কাজ প্রমাণ করে, শিল্প ও কারুশিল্প ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিসরেও কতটা অসাধারণ সূক্ষ্মতা ও নিখুঁত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
Argentavis magnificens ছিল পৃথিবীতে অস্তিত্বশীল সর্বকালের সবচেয়ে বড় উড়ন্ত পাখিদের মধ্যে একটি। এটি প্রায় ৬০ লাখ বছর আগে, বর্তমান আর্জেন্টিনা অঞ্চলে বসবাস করত। এর ডানার বিস্তার ৭ মিটারেরও (২৩ ফুট) বেশি হতে পারত এবং ওজন ছিল প্রায় ৭০ কিলোগ্রাম—যা একে প্রাগৈতিহাসিক বিশ্বের সত্যিকারের এক বিশালাকার প্রাণীতে পরিণত করেছিল।
এত বিশাল আকারের কারণে Argentavis সম্ভবত ছোট পাখিদের মতো একটানা ডানা ঝাপটাতে পারত না। বরং বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ ও ঊর্ধ্বমুখী উষ্ণ বায়ুর স্রোত বা থার্মালের ওপর ভর করে দীর্ঘ দূরত্বে ভেসে বেড়াত। আধুনিক শকুন ও কনডরের মতোই এটি খুব কম শক্তি খরচ করে আকাশে উড়ে বেড়াতে পারত।
এর বড় আকারের ঠোঁট দেখে ধারণা করা হয়, এটি সম্ভবত মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে বেঁচে থাকত, অর্থাৎ একটি মৃতভোজী বা scavenger ছিল। তবে সুযোগ পেলে ছোট প্রাণী শিকারও করে থাকতে পারে। আর এত বিশাল আকারের হলেও, উড্ডয়নের পদার্থবিজ্ঞানের কিছু সীমাবদ্ধতা Argentavis-এরও ছিল। আকাশে উড়তে ওঠার জন্য এর প্রয়োজন হতো খোলা বিস্তীর্ণ এলাকা এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহ।
এই বিস্ময়কর পাখিটি দেখায়, বিবর্তন একসময় কীভাবে উড্ডয়নের সীমাকে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল—এমন কিছু প্রাণীর সৃষ্টি করেছিল, যাদের আকার ও ক্ষমতা আজকের দৃষ্টিতে প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়।
গ্যারি টার্নার সারা বিশ্বে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন তার ত্বকের অসাধারণ স্থিতিস্থাপকতার কারণে। তিনি কোনো ধরনের ছিঁড়ে যাওয়া ছাড়াই ত্বককে অবিশ্বাস্য পরিমাণে টেনে লম্বা করতে পারেন। এই অস্বাভাবিক ক্ষমতার পেছনে রয়েছে Ehlers-Danlos syndrome, একটি সংযোজক টিস্যুর রোগ, যা ত্বকের শক্তি ও নমনীয়তাকে প্রভাবিত করে।
তার ক্ষেত্রে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা এতটাই বেশি যে তিনি পেটের ত্বক প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত টেনে প্রসারিত করতে পারেন। এর ফলে তিনি মানবদেহের এমন এক বিরল উদাহরণ হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন, যা কখনো কখনো আমাদের প্রচলিত ধারণাকেও অবাক করে দিতে পারে।
Install app for better experience